২০২৫ সালে ব্লুমবার্গের পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি আয় করেছে এইচএসবিসি

২০২৫ সালে ব্লুমবার্গের পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি আয় করেছে বহুজাতিক ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান এইচএসবিসি। গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, শক্তিশালী ওয়েলথ ম্যানেজমেন্ট, কাঠামো সহজীকরণ এবং ব্যয় সংকোচনমূলক সংস্কার কার্যক্রমের ফলেই এ সাফল্য এসেছে।

২০২৫ সালকে প্রতিষ্ঠানটির জন্য দৃঢ় পদক্ষেপ ও দ্রুত বাস্তবায়নের বছর উল্লেখ করে এইচএসবিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জর্জেস এলহেদারি বলেন, ‘ব্যাংকের চারটি প্রধান ব্যবসা খাতই সন্তোষজনক আয় করেছে এবং সামগ্রিকভাবে প্রবৃদ্ধির গতিও আশানুরূপ রয়েছে।’

হংকং স্টক এক্সচেঞ্জে দাখিল করা নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এইচএসবিসির কর-পূর্ব মুনাফা ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার কমে ২৯ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে এটি বাজার প্রত্যাশার চেয়ে বেশি। ব্লুমবার্গ নিউজের জরিপ অনুযায়ী, বিশ্লেষকরা ২৮ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার মুনাফার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।

এছাড়া গত বছর শেয়ারহোল্ডারদের অনুকূলে মুনাফা ছিল ২১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। যদিও আগের বছর তা ছিল ২২ দশমিক ৯ বিলিয়ন।

জর্জেস এলহেদারি জানান, ২০২৬ থেকে ২০২৮ সালের প্রতিটি বছরে উল্লেখযোগ্য আইটেম বাদ দিয়ে ১৭ শতাংশ বা তার বেশি ‘ট্যাঞ্জিবল ইকুইটির’ ওপর রিটার্ন অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সময়ে বছরব্যাপী রাজস্ব প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার লক্ষ্যও রয়েছে, যা ২০২৮ সালে ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ব্যাংকটি জানিয়েছে, ২০২৫ সালের কর-পূর্ব মুনাফা কমার প্রধান কারণ ছিল উল্লেখযোগ্য আইটেমের প্রভাবে বছরব্যাপী ৪ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের নিট নেতিবাচক প্রভাব। এর মধ্যে সহযোগী প্রতিষ্ঠান ব্যাংক অব কমিউনিকেশনসে বিনিয়োগ-সংক্রান্ত শেয়ার হ্রাস ও সম্পদ অবচয়জনিত ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

লন্ডনভিত্তিক ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানটি গত ডিসেম্বরে তাদের নেতৃত্ব পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শেষ করে। সে সময় আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞ ব্রেন্ডন নেলসনকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।

শেয়ারহোল্ডারদের উদ্দেশে লেখা চিঠিতে নেলসন তখন বলেন, ‘চলতি বছরে বৈশ্বিক অর্থনীতি সম্প্রসারিত হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।’ নীতিগত অনিশ্চয়তা থাকা সত্ত্বেও নতুন বাণিজ্য করিডোর সম্প্রসারণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক হার্ডওয়্যারের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে বৈশ্বিক বাণিজ্য বাড়বে বলেও আশার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রকে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি উল্লেখ করে নেলসন বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বড় বিনিয়োগ, করছাড় ও প্রণোদনা এবং ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ শিথিলতার সুফল পাচ্ছে দেশটি।’

আরও